রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে এবারও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে মোড়ানো হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সমন্বিত আইনশৃঙ্খলা তৎপরতার মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে নিরাপদ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি এতে অংশ নিতে পারবেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীজুড়ে ১২০টির বেশি ঈদগাহ ও দেড় হাজারেরও বেশি মসজিদে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৭শ’র বেশি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা বলয়ে প্রযুক্তি ও মানবিক নজরদারির সমন্বয়
নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে “লেয়ারড সিকিউরিটি” বা ধাপে ধাপে নিরাপত্তা বলয়। ঈদগাহে প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রেখে কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
ঈদগাহের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ—মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষাভবন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হবে। পাশাপাশি বহির্বেষ্টনী ও অভ্যন্তরীণ অংশে আলাদা আলাদা তল্লাশি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে একাধিক স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে বোম্ব ডিসপোজাল টিম, সোয়াট, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠে থাকবেন। ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করে ওপর থেকে নজরদারি চালানো হবে, যা বড় জনসমাগমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারী ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা
নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় ব্যবস্থাপনায়ও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঈদ জামাত শেষে যাতে হুড়োহুড়ি না হয়, সে জন্য লাইনিং ও পিকেটিং ব্যবস্থা রাখা হবে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা
ঈদগাহকেন্দ্রিক এলাকায় যানজট এড়াতে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট এলাকা, প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন রুটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টি না হয়।
মুসল্লিদের প্রতি নির্দেশনা
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে—কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করা এবং জামাত শেষে ধীরস্থিরভাবে বের হওয়া। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা পুলিশের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রস্তুতি এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
