হুড়োহুড়ির বদলে স্বস্তি: ঈদের আগের দিনে কমলাপুরে ফাঁকা ট্রেন

ঈদের ঠিক আগের দিনেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র—চিরচেনা ভিড়, হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলার বদলে ছিল স্বস্তি আর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। যাত্রীরা অনেকটাই আরাম করে, সময়মতো ট্রেনে উঠে নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়ছেন।

সকাল থেকেই স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ট্রেনই ফাঁকা আসন নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। কোথাও বড় ধরনের বিলম্ব বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগও পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের কয়েকদিনের সূচি বিপর্যয় কাটিয়ে এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, দিনের শুরু থেকে সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই চলাচল করছে এবং সারাদিন এ ধারা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে যে অল্প কিছু ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে স্বাভাবিক করা হয়েছে।

ভিড় কমার পেছনে বড় কারণ কী?

এই ভিন্ন চিত্রের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ঈদের তারিখ পরিবর্তন। অনেক যাত্রী আগে থেকেই বৃহস্পতিবার রাতের যাত্রার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ঈদ একদিন পিছিয়ে যাওয়ায় তারা তাড়াহুড়ো এড়িয়ে শুক্রবার অপেক্ষাকৃত স্বস্তিতে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এছাড়া, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নতুন করে টিকিট ছাড়ার ফলে অনেকেই শেষ মুহূর্তে টিকিট পেয়ে ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছেন। ফলে চাপ ছড়িয়ে গেছে দুই দিনে—যা স্টেশনের ভিড় কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা: পরিকল্পনা বদলে স্বস্তির যাত্রা

স্টেশনে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই হুড়োহুড়ি এড়িয়ে শান্তভাবে যাত্রা করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

  • কেউ কেউ বলছেন, ঈদ যদি আগের দিন হতো, তাহলে হয়তো যাত্রাই করা সম্ভব হতো না।
  • আবার অনেকে শুধুমাত্র টিকিট পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে হঠাৎ করেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
  • কেউ কেউ এটিকে ‘ঝামেলামুক্ত যাত্রার সুযোগ’ হিসেবেও দেখছেন।

রাজধানীর বাইরে আত্মীয়দের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতাও এবার চোখে পড়ার মতো। অনেকে এটিকে ঈদের ছুটির বাড়তি সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন।

স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা

কমলাপুর স্টেশনে যাত্রী কম থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগেই টিকিট যাচাই করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—

  • মোট ৫৫টি ট্রেন (এর মধ্যে ৪২টি আন্তঃনগর) ঢাকা ছাড়বে
  • তিনটি ট্রেন (নীলসাগর, কুড়িগ্রাম ও বেনাপোল এক্সপ্রেস) চলাচল করেনি
  • এসব ট্রেনের জন্য আগেই টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল

একটি পুরনো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে

যাত্রীচাপ কম থাকলেও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে কিছু যাত্রীর ছাদে ভ্রমণের প্রবণতা। যদিও এবার সেই চিত্র অনেকটাই কম, তবুও রেল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, যাত্রীদের সচেতন করা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে এই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে