রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যালগুলো ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিয়ে আসার উদ্যোগ অন্যতম। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার প্রায় ১২০টি সিগন্যাল আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং শহরের ভেতরে প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারপাস ও আন্ডারপাস তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এতে করে যানবাহনের চাপ ভাগ হয়ে শহরের ভেতরের সড়কগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—রাজধানীর ভেতরে থাকা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে শহরের বাইরে স্থানান্তর করা। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া হবে এবং সেগুলো পরবর্তীতে শুধু সিটি সার্ভিস পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার তুলে দেওয়া হবে।
শহরের সড়ক দখলমুক্ত করতেও জোর দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পাশাপাশি সড়কের মাঝখানে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন হয়।
রেলক্রসিংগুলোতেও পরিবর্তন আসছে। সেখানে ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি নগরীর সিটি বাসগুলোকে জিপিএস প্রযুক্তির আওতায় এনে চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পথচারীদের সুবিধা বাড়াতে বেশিরভাগ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি বসানো হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় লিফট স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ সহজে চলাচল করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে এপ্রিলের মধ্যেই যানজট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যেতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগগুলো সম্পন্ন হলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানানো হয়েছে। বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
