বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা নিয়ে রিটের আদেশ বুধবার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ এর তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের শুনানি গ্রহণ করে বুধবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবারও এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ৭ জুন বিসিবির পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ এর তফসিল ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে ফলাফলও ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশন ১৭ মে বিকেল ৪টায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। পরে ১৯ মে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) মনোনয়নে আরও দুইজন পরিচালক হবেন। ২৫ জন পরিচালকের ভোটে পরবর্তীতে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

এর আগে গত ৬ মে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাধারণ পরিষদ গঠন এবং পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি (জেলা প্রশাসক) ও বিভিন্ন ক্লাবের কাছে সাধারণ পরিষদের কাউন্সিলরদের নাম মনোনয়নের জন্য চিঠি পাঠান।

ওই চিঠি প্রত্যাহার এবং নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের দাবিতে গত ১৮ মে হাইকোর্টে রিট করেন ছয়জন কাউন্সিলর। রিটকারীরা হলেন আরমানুল ইসলাম নয়ন, মো. নাঈম হাওলাদার, মো. এনামুল আহসান, মো. আবদুল্লাহ অর্ক, আকিব জাভেদ মুন্না ও মো. রাকিবুল ইসলাম।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিসিবির সাধারণ কাউন্সিলে ২০২৫-২০২৯ মেয়াদের জন্য তাঁরা যথাযথভাবে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এ অবস্থায় ভোটার তালিকা থেকে ছয় আবেদনকারীর নাম বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে গত সোমবার (২৪ মে) একটি সম্পূরক আবেদনও করা হয়। সম্পূরক আবেদনে ৬ মের চিঠি, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়া রুল জারি হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার কাউন্সিলর বা প্রতিনিধি হিসেবে রিট আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর বিসিবির পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রিটে যুব ও ক্রীড়া সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বান্দরবান, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া ও ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসকদের বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও মো. শফিকুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। অন্যদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহিন এম রহমান।

শুনানি শেষে আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, রিটের ওপর শুনানি গ্রহণ করে আদালত বুধবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেন, সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং আবেদনকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বিসিবি নির্বাচন ঘিরে করা এই রিটের শুনানি ও সম্ভাব্য আদেশের দিকে এখন ক্রীড়া অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে। কারণ আগামী ৭ জুন নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক দিন আগে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।