খেলাধুলা মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে: আমিনুল হক

খেলাধুলা কেবল পদক জয়ের প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি সীমান্ত, ভাষা ও সংস্কৃতির বিভেদ দূর করে মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১০ম ক্যাডেট, জুনিয়র, অনূর্ধ্ব-২১ ও সিনিয়র সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার এমন এক অনন্য শক্তি রয়েছে, যা সব ধরনের সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একত্রিত করতে পারে। তিনি বলেন, “আজ এখানে ৭০০-এরও বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাকে একসঙ্গে দেখে মনে হচ্ছে, খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, এটি শান্তি, বন্ধুত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও পারস্পরিক আস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে আবদ্ধ এ অঞ্চলের তরুণদের একই মঞ্চে একত্রিত করার মাধ্যমে শান্তি ও সম্মিলিত অগ্রগতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারের ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব উন্নয়নকে সরকার জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় বড় ক্রীড়া আয়োজনের সক্ষমতা প্রদর্শন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন এবং আয়োজক কমিটির প্রশংসা করে আমিনুল হক বলেন, তাদের পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই এ ধরনের আন্তর্জাতিক আসর সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি অ্যাথলেট নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তাঁরা সম্মিলিতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার দূত হিসেবে কাজ করছেন।

অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আপনারা এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে অংশ নিন। তবে ক্রীড়াসুলভ আচরণ, বিনয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ যেন সবসময় অটুট থাকে। বিজয়কে বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করুন এবং পরাজয়কে মর্যাদার সঙ্গে মেনে নিন। আপনাদের এই নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমিনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ম সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এবারের আসরে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের শত শত ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রতিযোগিতা শুধু ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রই হবে না, বরং আঞ্চলিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।