ঢাকা, ২৬ জুন: দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়ার প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া’র দ্বিতীয় মৌসুমের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরু হবে। একই সঙ্গে আগামী জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও জলপোলো প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে অনেক শিশু-কিশোর ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এবং সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যেই সরকার শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। এর ফলে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে এবং নির্ধারিত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
ক্রীড়ার বিস্তারে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া’র প্রথম মৌসুমের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হবে। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় মৌসুম শুরু হবে, যেখানে দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নে একযোগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন খেলায় হাজার হাজার দল গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খেলোয়াড়দের পেশাগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, আগামী জুলাইয়ের পর আরও ২০০ জন খেলোয়াড়কে নিয়মিত সহায়তার আওতায় আনা হবে। এর ফলে মোট প্রায় ৫০০ জন খেলোয়াড় ক্রীড়া ভাতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এতে তরুণরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত হবে।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও জলপোলো প্রতিযোগিতায় দেশের ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক ওবায়দুল স্যারকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
