সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সরকার, প্রযুক্তি খাত ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৬: দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে নিরাপদ ও টেকসই করতে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল আস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনের আয়োজন করে ‘দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত একটি প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবন, আর্থিক ব্যবস্থা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণমাধ্যম এখন ক্রমেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এ কারণে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল আস্থা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়।

তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কিংবা ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই কার্যকর জাতীয় সাইবার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধু কারিগরি বিষয় নয়, এটি মানুষের সচেতনতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাগরিকদের সাইবার অপরাধ ও গুজব সম্পর্কে সচেতন করা না গেলে ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের দূরদর্শী উদ্যোগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্যাডোসার্ভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিওত্র কিজেউস্কি।

সম্মেলনে ‘দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম শামীম রেজা এবং কৌশল ও রূপান্তর উপদেষ্টা মো. আবদুল্লাহ ফরিদের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।

এতে দেশ-বিদেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।