বিপিও খাতের নীতিগত সহায়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রামে আলোচনা

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’কে সামনে রেখে বিপিও ও আইটিইএস খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নীতিগত সহায়তা নিয়ে একটি পলিসি ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ চট্টগ্রামকে দেশের অন্যতম ডিজিটাল সেবা ও আউটসোর্সিং কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, বিপিও শিল্পের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এতে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের বিদ্যমান পরিস্থিতি, দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তা, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামে ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনশক্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে অঞ্চলটি আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিপিও সামিট সফলভাবে আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিভিত্তিক পেশাজীবীদের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে বাক্কোর প্রতিনিধিরা বিপিও ও আইটিইএস খাতকে জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাদের মতে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হলে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণে খাতটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুন চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হল-এ ‘হোয়ার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হবে ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে ক্যারিয়ার এক্সপো, ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রাম, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, রাউন্ডটেবিল আলোচনা, সেমিনার এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।