চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালমাটিয়া এলাকায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বাজেটের চাহিদা জানিয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে মীর শাহে আলম বলেন, আগস্টের পর অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকেই কোন স্তরের নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, খাল খনন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও সিলেট সিটি করপোরেশন ভালো কাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ২০২৪ সালে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় চলমান প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্জ্য শুকানোর (বায়ো ড্রাইং) প্রযুক্তি চালু হলে বর্জ্যের আর্দ্রতা কমিয়ে তা সহজে পৃথক করা যাবে। পরে প্লাস্টিক অংশ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ থেকে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলার রায় রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব রবিউল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
