বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শুক্রবার (৫ জুন) সমরখন্দ-এ অনুষ্ঠিত জিইএফ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সরকারের তথ্য ও বিবরণীতে জানানো হয়, সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জিইএফ-এর ১৮৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।
অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ দূষণের উৎসসমূহ যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, এসব কর্মসূচির পাশাপাশি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এবং বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিইএফ-এর লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
