বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ধারাবাহিক হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক কারণে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ আইনজীবী সমিতি (সিএলএ) এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আইন সংস্থাগুলোর সংগঠন ‘লএশিয়া’। একই সঙ্গে সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ফৌজদারি মামলা দায়েরেরও নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দুই আইনি প্রতিষ্ঠান।
গত বুধবার (৩ জুন) সিএলএর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারকে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়। সিএলএর সভাপতি স্টিভেন থিরু এবং লএশিয়ার সভাপতি ইয়াপ তিয়ং লিয়াং এতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আইনজীবীকে লিখিত কারণ বা শুনানি ছাড়াই মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিলের সুযোগও রাখা হয়নি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠন দুটি জানায়, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত জানুয়ারি থেকে অন্তত ১৩টি বার নির্বাচনে প্রায় ২০০ জন আইনজীবীকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা গুরুতর ধারার মামলাগুলোকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল উল্লেখ করে ১৯৯০ সালের জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংগঠন দুটি বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বার নির্বাচনে সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, বৈষম্যহীনভাবে সব যোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ ও আপিলের ব্যবস্থা রাখা এবং দায়ের করা ‘কাল্পনিক’ মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ইউরোপের বার ও আইন সমিতিসমূহের কাউন্সিল (সিসিবিই) বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বার নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দেয়। জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (জেএমবিএফ) তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, শারীরিক হয়রানি এবং পুলিশের চাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ওই চিঠিতেও নির্বাচনী অনিয়মের তদন্ত, সব আইনজীবীর সমান অংশগ্রহণ এবং ভয়ভীতিমুক্ত পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
