বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎসব ১২ জুন, চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ২০৮ দল

দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) আয়োজন ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশব্যাপী নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও বাছাই কার্যক্রম শেষে আগামী ১২ জুন রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এআই নির্মাতাদের সমাবেশ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআইনির্ভর উদ্ভাবনী প্রয়োগভিত্তিক আয়োজন।

ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তিন হাজার ৫০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেছেন। ৬০০টিরও বেশি দল আবেদন জমা দিলেও কঠোর মূল্যায়ন শেষে ২০৮টি দল চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এসব দলের এক হাজারের বেশি এআই নির্মাতা সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে এক পৃষ্ঠার প্রকল্পসার ও তিন মিনিটের ভিডিও উপস্থাপনা জমা দিতে হয়। বিশেষজ্ঞ বিচারকরা সেগুলো মূল্যায়ন করে পাঁচটি উদ্ভাবনী বিভাগ থেকে সেরা দলগুলো নির্বাচন করেছেন।

চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলো শিক্ষা প্রযুক্তি, বিপণন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাস্তব সমস্যাভিত্তিক ও ব্যবহারোপযোগী এআই সমাধান উপস্থাপন করবে।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ইনফিনিটি ভাইব কোডিং টু প্রোডাকশন চ্যালেঞ্জ’। এ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০০ জন অংশগ্রহণকারী মাত্র পাঁচটি নির্দেশনা ব্যবহার করে ৬০ মিনিটের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এআইভিত্তিক প্রয়োগ তৈরি ও চালু করার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের মতে, এটি এআই-সহায়ক সফটওয়্যার প্রকৌশলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি বাস্তব প্রদর্শন।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য ‘অপরচুনিটি কানেক্ট’ শীর্ষক বিশেষ উদ্যোগও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বিনিয়োগকারী, নিয়োগদাতা এবং উচ্চশিক্ষা পরামর্শকদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একান্ত বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন। কর্মসংস্থান, বৃত্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

দিনব্যাপী পরামর্শদান অধিবেশন ও কর্মশালারও আয়োজন রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ পরামর্শকেরা দলগুলোর প্রকল্প উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত কাঠামো মূল্যায়ন এবং উপস্থাপনা প্রস্তুতিতে সহায়তা করবেন। পাশাপাশি এআইনির্ভর স্থাপত্য, নির্দেশনা প্রকৌশল এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তভিত্তিক সমাধান নির্মাণ বিষয়ে তিনটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ১০টি বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলকে তিন মিনিটের প্রদর্শনী উপস্থাপন, দুই মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং স্বাধীন নম্বরায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে দলগুলোর মূল্যায়ন করা হবে।

আয়োজকেরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরাও বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ফলে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান বলেন, “এআই বিল্ডফেস্ট কোনো সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়। এখানে অংশগ্রহণকারীরা শুধু কম্পিউটার নির্দেশনা লেখেন না, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরি করেন, বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেন এবং নিজেদের বৈশ্বিক মানের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পান।”

প্রতিযোগিতা শেষে পাঁচটি বিভাগ থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দল এবং ভাইব কোডিং চ্যালেঞ্জের বিজয়ীসহ মোট ১৫টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ হাজার টাকা, রানারআপ দল ৩০ হাজার টাকা এবং ভাইব কোডিং চ্যালেঞ্জের বিজয়ীরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। এছাড়া বিজয়ী দলগুলো ক্রেস্ট, সনদ এবং আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।