দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের জন্য এই বরাদ্দের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়ছে ২১ কোটি টাকা।
বাজেটকে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ নতুন কিছু কর্মসূচি যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিকনির্দেশনাও বাজেট বক্তৃতায় উঠে আসে।
সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে বিচার বিভাগ, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
