- ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’-এ অংশ নেয় এক হাজারের বেশি এআই নির্মাতা, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১০ দল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দক্ষতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এআই প্রতিযোগিতা ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’। রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আয়োজিত এ হ্যাকাথনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের তরুণরা অংশ নিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক নানা প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে তিন হাজার ৫০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে ২০৮টি দলকে মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনকে দেশের সবচেয়ে বড় এআই হ্যাকাথন হিসেবে দাবি করেছেন আয়োজকরা। প্রতিযোগিতায় এক হাজারের বেশি তরুণ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
এবারের হ্যাকাথনে এডটেক, মারটেক, হেলথটেক, ই-কমার্স এবং ইনফোটেক এই পাঁচটি বিষয়ে আলাদা ট্র্যাকে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে সক্ষম প্রকল্প উপস্থাপন করে। ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল সরাসরি মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।
মারটেক বা ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ব্রেকিং ব্রাক’ দল। একই বিভাগে রানার-আপ হয়েছে ফ্লোজেনএক্স ডট এআইয়ের ‘ইনোএআইভার্স’।
এডটেক বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘দ্য টোকেনাইজার্স’। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ‘অরবিট সাস’।
হেলথটেক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ডুগার্ডর’। রানার-আপ হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম সিসিএন’।
ই-কমার্স বিভাগে প্রথম হয়েছে মাইলস্টোন কলেজের ‘গোস্ট হান্টার’। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের ‘নিটার_জেনোভারিয়ান্টস’।
অন্যদিকে ইনফোটেক বা সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর জুডিশিয়াল অ্যাডভান্সমেন্টের ‘সাইবার সিল্ড এআই’। রানার-আপ হয়েছে ‘নিশ (রবেন্ডেভস)’ দল।
মূল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘ভাইব কোডিং টু প্রোডাকশন (ভিসিপি)’ চ্যালেঞ্জও আয়োজন করা হয়। এ বিভাগে সেরা পাঁচজন নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. আসিম আলম চৌধুরী, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির তানভীর আহমদ, আপস্ট্রা কমিউনিকেশন লিমিটেডের মো. বাজলুর রহমান লিখন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির নায়িমুজ্জামান এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আদিব রহমান।
বিজয়ী দলগুলোর জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ভিসিপি চ্যালেঞ্জের নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার পান। এছাড়া ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেইভ ডাউল্যান্ড এবং আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে বাংলাদেশের তরুণরা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারেই নয়, বরং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরিতেও সক্ষম। তিনি এটিকে দেশের এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. ডেইভ ডাউল্যান্ড বলেন, অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করেছে। এমন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনকে এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে তা সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ইতোমধ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিতে শুরু করেছে।
এ আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন)। প্লাটিনাম স্পন্সর ছিল ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডব্লিউইউএসটি) এবং টেকনাফ। একাডেমিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল রাইজআপ ল্যাবস ও আস্থা আইটি। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনভিত্তিক সংগঠন সিলভার স্পন্সর এবং প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে অংশ নেয়। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গ্রিন টিভি।
আয়োজকদের মতে, তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
