ঢাকা, ২৪ জুন: দেশের শিক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ চলছে এবং সরকার ধীরে ধীরে একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাণিজ্য, ঘুষ ও দুর্নীতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকারি দলের লোকজনের চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ও দুর্নীতি অবাধে চলছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ করা হচ্ছে। নবগঠিত সংসদেও বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে ভিন্ন পথে হাঁটছে। গণভোট-সংক্রান্ত সরকারি অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন নেওয়া সিদ্ধান্ত নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সরকার এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংগঠনের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে আসছে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও দলটির অংশগ্রহণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে সবাইকে ধৈর্য, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চলতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
তরুণ সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুবসমাজকে দেশপ্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশ গঠনে আলেম সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে আলোচনা উপস্থাপন করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএ মা’ছুম।
