সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, স্পষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি অর্থমন্ত্রী

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা কবে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা। আমানত ফেরতের পরিমাণ, সম্ভাব্য শর্ত এবং ব্যাংকটির বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও জানতে চান তারা। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

বুধবার সংসদের বৈঠকে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে ব্যাংক পুনর্গঠন কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া তারল্য সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের পরিস্থিতিও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংক মুনাফা অর্জন করলে আমানতকারীরা মুনাফা পাওয়ার অধিকারী হন। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো মুনাফা করতে না পারলেও আমানতকারীদের চার শতাংশ হারে ‘এহসান’ প্রদান করা হয়েছে। কথিত মুনাফা কর্তন নীতি প্রত্যাহার বা পূর্ণ মুনাফা পরিশোধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আলোচিত মামলার বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি জনবল, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, শাখা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক কাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

গ্রাহকদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংককে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

সংসদে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সদস্য একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের অর্থ ফেরত এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।