অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব স্থগিত বা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ অনুযায়ী সাইবার জগতে জুয়া পরিচালনা, জুয়ার জন্য ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ, এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করা, প্রচারণা চালানো কিংবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিপণন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। আইন কার্যকর হওয়ার পর সংস্থাটি অনলাইন জুয়ার বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গত মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে জমা দেয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা অনুসন্ধান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে দেশের সব মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল। ওই নির্দেশনায় গ্রাহক ও ব্যবসায়িক হিসাব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও এ ধরনের আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইন প্রয়োগ, নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
