সংসদে ব্যক্তিগত মন্তব্য ঘিরে উত্তাপ, বিতর্কিত বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ

জাতীয় সংসদে এক সদস্যের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতার পরিবার এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক প্রসঙ্গে করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডেপুটি স্পিকার বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের বক্তব্যের পর বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও পাল্টা বক্তব্য শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর একটি মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, অতীতে মনিরুল হক চৌধুরী ইতিহাস ও রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখলেও এবার তিনি সংসদীয় শালীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য একটি সংকীর্ণ মানসিকতার প্রতিফলন এবং তা বর্ণবাদী আচরণের পর্যায়ে পড়ে। ভবিষ্যতে সংসদে কোনো সদস্য যেন এ ধরনের মন্তব্য না করেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিতর্কের জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রুলিংয়ে তিনি বলেন, সংসদে কোনো সদস্য অন্য কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। সংসদের মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত শালীনতা বজায় রাখা সকল সদস্যের দায়িত্ব।

পরে স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে সংসদীয় বিধির ৩০২ ধারার আওতায় নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

এ সময় পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের পক্ষে বক্তব্য রাখতে চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। স্পিকার বলেন, কোনো বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত একবার নেওয়া হলে তা নিয়ে পুনরায় বিতর্ক বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে না।

পরবর্তীতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সংসদীয় বিধির আলোকে মনিরুল হক চৌধুরীকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সময়ে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।