পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হলে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল রেড নোটিশ জারি করা হয়। এরপর ইন্টারপোলের সমন্বয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নজরদারিতে রাখে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে।
সংসদে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
রোববার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক আছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়। এরপর দেশটির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং এনসিবি আবুধাবি বিষয়টি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ উদ্যোগ
মন্ত্রী আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হয়। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুদকের পক্ষ থেকে মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত সংক্রান্ত সব দলিল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রয়োজনীয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়ে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে।
কোন কোন ধারায় মামলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা; দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের ১১ ধারায় মামলা চলমান রয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং ভবিষ্যতে অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এটি তার প্রমাণ।
সূত্র অনুযায়ী, দুদকের মামলা ও অনুসন্ধানের পর থেকেই বেনজীর আহমেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় আনা হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।
