বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা, কাজাখস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে ঐকমত্য

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ। সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

বুধবার স্থানীয় সময় সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরু হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওকসহ ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় এক হাজার সাতশ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি প্রকাশ করে।

এ সময় বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া পানি কূটনীতি বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে বাংলাদেশ সমর্থন জানায়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভাপতি আলোইস জভিংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফোরামের সভাপতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ করে বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান দ্রুতগতির ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয়। সফরের দ্বিতীয় ধাপে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। বেইজিং সফরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।