ঢাকা, ২৫ জুন: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন আবেদন ও মঞ্জুরি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, জটিলতা এবং হয়রানি কমাতে সরকার চালু করেছে অনলাইনভিত্তিক পেনশন ট্র্যাকিং ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পেনশনপ্রত্যাশীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পরে এটি হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরে সম্প্রসারণ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো অবসরের আগের পেনশন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা, যাতে আবেদনকারীদের বারবার অফিসে যেতে না হয়।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরোত্তর ছুটি শুরু হওয়ার ১১ মাস আগে স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাবেন। এছাড়া আবেদনকারীরা অনলাইনে সরাসরি তাদের আবেদন ও নথির বর্তমান অবস্থা দেখতে পারবেন।
ব্যবস্থাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো সমন্বিত তথ্যভান্ডার ব্যবহার। এর মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার তথ্যভান্ডার থেকে চাকরিসংক্রান্ত তথ্য ও আর্থিক বিবরণী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হবে। ফলে তথ্যগত ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং পেনশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, পেনশন সংক্রান্ত কাজে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রায়ই বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে তারা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। তিনি বলেন, সরাসরি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি কমানোও সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কোনো ব্যক্তি পুনঃস্থাপনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মারা গেলে তার পরিবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক এস. এম. রেজভী।
অর্থ সচিব বলেন, অবসরের পর অনেক সরকারি কর্মচারী অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্ব অনুভব করেন। নতুন এই ব্যবস্থা তাদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি তৈরি করবে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পদমর্যাদাভিত্তিক অভিন্ন পেনশন ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক এস. এম. রেজভী জানান, পেনশন-পরবর্তী অর্থ ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। নতুন উদ্যোগ পেনশন প্রক্রিয়ার আগের ধাপগুলোকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
কর্মশালায় অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও কর্মসূচির জাতীয় পরিচালক জিয়াউল আবেদীন স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম।
আলোচনায় দপ্তরভিত্তিক তথ্যসমন্বয়, অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ এবং নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও মতবিনিময় হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ সরকারি পেনশন সেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করে তুলবে।
