বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সুসান রাইল।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের প্রথম সচিব এ্যানা পিটারসন এবং হ্যারি থম্পসন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমানের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ, সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্ব এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উপায় গুরুত্ব পায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মত প্রকাশ করা হয় যে, বিরোধী দলের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্রের চর্চা পূর্ণতা পায় না।
বৈঠকে সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেট এবং বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেট নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উন্নয়ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা ও মারদিয়া মমতাজ এবং দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমেদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
