জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা থেকে সরকার সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক দলীয়করণের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পরিবর্তে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল তাদের ঘোষিত ৩১ দফায় রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
চাকরি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার দাবি, বর্তমানে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন সরকারি নিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিতর্কিত নিয়োগের কারণে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সেখানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় না থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ কারণে সরকারকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
