গ্রেপ্তারের তারিখে অসঙ্গতি, রামপুরার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হবে। তবে রায় ঘোষণার আগে মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের গ্রেপ্তারের তারিখ নিয়ে সরকারি নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুর রউফ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়।

কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলের সই করা ৩০ জানুয়ারির এক দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

ওই আদেশে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ৭৩ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি থেকে তাকে পূর্ব কার্যকারিতা দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। জামিনে মুক্তি পেলে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থেকে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রেপ্তারের তারিখে এই অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদুল হক বাবু। তিনি বলেন, তার মক্কেলকে ২৬ জানুয়ারি রাতেই গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে ২৮ জানুয়ারির কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও জানান, এ অসঙ্গতির বিষয়টি পরিষ্কার করতে ২৪ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চঞ্চল চন্দ্র সরকারের দায়িত্বসূচি, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি তলবের আবেদন করা হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ঢাকায় আসতে একদিনের বেশি সময় লাগে। সম্ভবত এ কারণেই তদন্ত প্রতিবেদনে ২৮ জানুয়ারির তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় মোট পাঁচজন আসামির মধ্যে বর্তমানে কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক উপপরিদর্শক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও দৃশ্যধারণের প্রমাণ উপস্থাপন করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়।

প্রথমে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হলেও শেষ মুহূর্তে রাষ্ট্রপক্ষ নতুন দৃশ্যধারণের প্রমাণ উপস্থাপনের আবেদন করলে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। আজ সেই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।