বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে ১০ বছরের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি কার্যকর ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট কাটিয়ে আগামী ১০ বছরের মধ্যে টেকসই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ খাতে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থার দল হিসেবে বিএনপি দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কার্যকর পরিবর্তন আনতে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সড়কপথে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পাকুন্দিয়ার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি প্রান্তিক মৎস্যচাষিদের মধ্যে পোনা বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নদের দুই পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পাকুন্দিয়া ও পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, পাকুন্দিয়া অংশে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হলে দুই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।

স্থানীয়রা জানান, গত ছয় মাসে সরকারের প্রতিশ্রুত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় তারা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা, দুই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।

পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন উদ্যোক্তার হাতে জাতীয় পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনেরও কর্মসূচি রয়েছে তার।