ঢাকা: সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সহনশীলতা জোরদার এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সম্মেলন ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ শেষ হয়েছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামে।
‘উদীয়মান অর্থনীতিতে সাইবার নিরাপত্তার ব্যবধান দূরীকরণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সহনশীলতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একাধিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, গবেষণার ফল এবং নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সম্প্রতি চীন সফরে প্রযুক্তিবিষয়ক নানা বিষয়ে দেশটির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে দেশের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ আয়োজন সেই সম্ভাবনারই প্রতিফলন।
দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা এএসএম শামীম রেজা বলেন, ফিনিক্স সামিট ২০২৬ বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার একটি যৌথ উদ্যোগ। দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই সম্মেলনে জ্ঞান বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করে। পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজনে ১০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন অধিবেশন, কর্মশালা, প্রদর্শনী ও মতবিনিময় কার্যক্রমে অংশ নেন। এছাড়া ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী স্টল, ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব এবং দেশি-বিদেশি তিনটি জ্ঞানভিত্তিক অংশীদার এতে অংশগ্রহণ করে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সাইবার নিরাপত্তা ক্লাবকে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (ডোমেইন) জয়ীতা সেন রিম্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবিরকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন শুরু হওয়া এ সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত ‘ব্যবহারিক সাইবার তদন্ত’ কর্মশালা বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস’, ‘অ্যাপ্লিকেশন নিরাপত্তা, দুর্বলতা ব্যবস্থাপনা ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা’ এবং ‘র্যানসমওয়্যারের কার্যপ্রক্রিয়া’ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ সম্মেলনের সমাপনীতে আয়োজকরা জানান, দেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
