এআইয়ের বিস্তারে বাড়ছে সাইবার হামলার নতুন ঝুঁকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার যেমন সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি সাইবার অপরাধীদের হাতেও এটি হয়ে উঠছে শক্তিশালী হাতিয়ার। এআইয়ের সহায়তায় সাইবার হামলার পরিকল্পনা, কৌশল তৈরি ও পরিচালনার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে। ফলে একটি হামলা শনাক্ত করে প্রতিরোধের জন্য নিরাপত্তা দলগুলোর হাতে আগের তুলনায় অনেক কম সময় থাকছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোসের ‘এআই সিকিউরিটি ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধীরা মূলত প্রচলিত হামলার কৌশলই ব্যবহার করছে। তবে এআই এসব কার্যক্রমকে দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও আরও সমন্বিত করে তুলছে। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিচালিত হতে পারে এমন হামলার প্রস্তুতি এখন কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে ব্যবহৃত এআইয়ের বিভিন্ন পরিচয় ও অ্যাক্সেস ব্যবস্থাপনা এখন হামলাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এর মধ্যে আইডেন্টিটি, অথেনটিকেশন টোকেন, এআই এজেন্ট, এপিআই এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট টুল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে এআই-সহায়িত সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনাও আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।

সফোসের গবেষণায় ‘এসটিএসি ৬৯৯৪’ নামে একটি হামলা অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই অভিযানে প্রায় ১২টি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রমের কৌশল পরীক্ষা করা হয়। হামলাকারীরা প্রায় ৮০টি মডিউল এবং ৭০টির বেশি ইভেশন কৌশল তৈরি করে। মানুষের ক্ষেত্রে যে ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, এআইয়ের সহায়তায় তা কয়েক দিনের মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে কোডিং এজেন্ট, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ওপেন-ওয়েট মডেলও নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তি যদি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ক্রেডেনশিয়াল, অ্যাক্সেস পারমিশন, অথেনটিকেশন সংযোগ এবং এপিআই কী হামলাকারীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া এআইনির্ভর সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়, কণ্ঠস্বর বা দৃশ্য তৈরি করে প্রতারণা করা আরও সহজ হচ্ছে। ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো যোগাযোগ সত্যিকারের নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তা শনাক্ত করাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু এআই মডেল নয়, এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ডেভেলপার টুল, মডেল ওয়েট, প্রশিক্ষণ ডেটা, ডেভেলপমেন্ট অবকাঠামো এবং সাপ্লাই চেইনও সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব জায়গায় নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকলে তা কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সফোসের মতে, এআই নিরাপত্তাকে কেবল মডেল সুরক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পরিচয় ব্যবস্থাপনা, প্রবেশাধিকার, গভর্ন্যান্স, অবকাঠামো এবং সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নীতি, নজরদারি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সফোস এক্স-অপস এমডিআর কেসওয়ার্ক, সফোস ল্যাবস, সফোস সিটিইউ ইন্টেলিজেন্স, সফোস এআই রিসার্চ এবং ৬ লাখ ২৫ হাজারের বেশি গ্রাহকের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।