বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন (VEON) বাংলাদেশে নতুন করে বড় পরিসরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার উদ্যোগও প্রস্তাব করেছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভিওনের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা। বৈঠকে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ভিওনের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল ব্যাংকিং, ক্ষুদ্রঋণ এবং ক্ষুদ্র বিমা সেবা পৌঁছে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ সময় ভিওন ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ উদ্যোগের রূপরেখাও উপস্থাপন করে। প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রাথমিকভাবে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ভিওনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত সংযোগ প্রযুক্তি। এছাড়া নিজেদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের যাত্রায় আমরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে চাই। ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা সক্রিয় ভূমিকা রাখব।”
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, “বাংলাদেশের ডিজিটাল ও আর্থিক রূপান্তরের যাত্রায় সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধারাবাহিক বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে ডিজিটাল ও আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে চাই।”
বৈঠকে জানানো হয়, ভিওন ও বাংলালিংক ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, রাইড শেয়ারিং, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং স্টারলিংকের ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগও পর্যালোচনা করছে।
