অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে ডিএসসিসির প্রকৌশলী আনিছুর, একই দিনে বদলি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কারণে তাঁকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

তদন্তসংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামকে। তাঁকে অভিযোগসংশ্লিষ্ট প্রকল্প, দরপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া, বিল পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে জারি করা পৃথক এক আদেশে প্রশাসনিক কারণে আনিছুর রহমানকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) অথবা সমমানের শূন্য পদে বদলি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, তিনি তাঁর বিদ্যমান বেতনক্রম ও প্রাপ্য অন্যান্য সুবিধা বহাল রেখে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির যান্ত্রিক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের যানবাহন, ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের যান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এসব প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, ক্রয়প্রক্রিয়া, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।