- পরিবারের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা আদায়
রাজধানীর ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের সহকারী পুরোহিত ও আইন কলেজের শিক্ষার্থী সুভাষ দেউরীকে (২৫) রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা আদায় করে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পরিবার জানায়, সুভাষ দেউরীর বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। তিনি রাজধানীর ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজে অধ্যয়ন করতেন এবং কয়েক মাস ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সুভাষের রুমমেট ও বন্ধু দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি সুভাষকে পাননি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুভাষের নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে কিছু টাকা চাওয়া হলেও তার কাছে টাকা না থাকায় পাঠাতে পারেননি।
দুর্জয় বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে রাত কাটানোর পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় ফেরার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ সময় তার কাছে মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগও ছিল না। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তার ভাষ্য, হাসপাতালে নেওয়ার পর সুভাষ সংক্ষিপ্তভাবে জানান, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
সুভাষের বোন জয়া দেউরী বলেন, রাত ১টার দিকে তিনি ভাইকে ফোন করলে অপরিচিত একজন ফোন রিসিভ করে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালে তারা জানতে পারেন, সবার কাছেই একইভাবে টাকা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাত আড়াইটার দিকে ভাইয়ের নম্বর থেকেই আবার ফোন আসে। তখন সুভাষ কান্নাজড়িত কণ্ঠে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং জানান, টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। পরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া একটি নম্বরে রাতেই ২৬ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এরপর থেকে সুভাষের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষ দেউরীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
