ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি, পার্লামেন্ট স্পিকার ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেহরানের গ্র্যান্ড মাসাল্লায় অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পরে তিনি সেখানে সংরক্ষিত শোক বইতেও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে, ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের স্পিকার। খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার তিনি তেহরান পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
বৈঠকে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ও ইরানের শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ইরানসহ পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে স্পিকার গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পরে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের স্পিকার। এ সময় ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী তার দেশে ক্রিকেটের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে স্পিকার জানান, বিষয়টি তিনি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে পৌঁছে দেবেন।
সফরের অংশ হিসেবে স্পিকার ইরান রেডিওর বাংলা বিভাগকে একটি সাক্ষাৎকারও দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-ইরান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু এবং ইরানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সেবা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
