সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে কমিশন বৃদ্ধি না হওয়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সিএনজি বিক্রিতে নির্ধারিত কমিশন অপরিবর্তিত থাকলেও পরিচালন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় দাবি আদায়ে আগামী ৩০ জুলাই প্রতীকী ধর্মঘট এবং পরবর্তীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মালিকদের সংগঠন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও রূপান্তর কর্মশালা মালিক সমিতির নেতারা। তারা জানান, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন প্রতীকীভাবে বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না এলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু এ সময়ে বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে শ্রমিকদের মজুরি, ব্যাংক ঋণের সুদ, গ্যারান্টি ফি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়। ফলে অনেক স্টেশন মালিককে লোকসান গুনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি ঘনমিটার সিএনজিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শুধু বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে কমিশন ২ টাকা ৪৬ পয়সা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

মালিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সিএনজি কমিশন বৃদ্ধি, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কমিশনের স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়, পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

সংগঠনের নেতারা আরও জানান, কমিশন বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার গঠিত কারিগরি কমিটি কমিশন বৃদ্ধির সুপারিশ করলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের অভিযোগ, এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাড়তি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। ফলে পরিবেশবান্ধব এই খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বর্তমানে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এদিকে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিএনজি স্টেশন মালিকরা। তারা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই দাবি আদায়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান হলে ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে, যা দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।