রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য রেল যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পদ্মা এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান টিকিটবিহীন কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনা দেখতে পান। তিনি এর প্রতিবাদ করলে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) সুমনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান বলে দাবি করা হয়েছে।
ফোরকানের ভাষ্য, প্রতিবাদ করার পর তাকে গলা চেপে ধরা হয়, পায়ে আঘাত করা হয় এবং টেনেহিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এটি ছিল তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হামলা।
ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে অভিযুক্ত টিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে সেখানে অভিযুক্তকে না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজশাহী-ঢাকা রেলপথ অবরোধ করেন।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, অভিযুক্ত টিটি সুমনকে প্রকাশ্যে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণ ও হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, আহত শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না আসায় শিক্ষার্থীরা অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, ঘটনাটি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাস ও রেলস্টেশন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
