এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে প্রথম ধাপের আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের নতুন সূচি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে। একই সময়ে ১০ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তাদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ ধাপের আবেদন নেওয়া হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার কথা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় বাঁচাতেই আগের প্রস্তাবিত সূচি থেকে ভর্তি কার্যক্রম এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন সূচি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তবে একাদশ শ্রেণিতে এবার মোট কয় ধাপে আবেদন নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাধারণত তিন ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হলেও আসন খালি থাকলে চতুর্থ ধাপেও আবেদন নেওয়ার নজির রয়েছে। এবার সময় কমানোর লক্ষ্যে আবেদনের ধাপের সংখ্যা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে তাদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এর বিপরীতে এবার পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ আসন খালি থেকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া আলাদাভাবে সম্পন্ন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে।
