কুকুরেয়ার ফুটবলের চেয়েও বড় পরিবার

স্পোর্টস ডেস্ক

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথা ভাবছেন স্পেনের তারকা ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে নেই কোনো বিতর্ক, বরং রয়েছে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং সন্তানের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ।

স্পেনের হয়ে ইউরো শিরোপা জয়ের পর কুকুরেয়া জানিয়েছিলেন, যদি তিনি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপও জিততে পারেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তার এই বক্তব্য অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিস্ময়ের জন্ম দেয়, কারণ একজন খেলোয়াড়ের জন্য ২৭ বছর বয়স সাধারণত ক্যারিয়ারের সেরা সময়গুলোর একটি।

তবে কুকুরেয়ার কাছে ফুটবলই জীবনের সবকিছু নয়। একজন খেলোয়াড়ের পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন বাবা, আর সেই দায়িত্বই তার অনেক সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।

কুকুরেয়ার বড় ছেলে মাতেওর অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর তার ও সঙ্গী ক্লাউদিয়া রদ্রিগেজের জীবনের অগ্রাধিকার অনেকটাই বদলে যায়। সন্তানের প্রয়োজনীয় যত্ন, শিক্ষা ও বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ইংল্যান্ডে চেলসিতে খেলার সময় মাতেওর অটিজমের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর কুকুরেয়া ও তার পরিবারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল, থেরাপি এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সেবা খুঁজে বের করতে তাদের সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়েছে।

ফুটবল ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও পরিবারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কুকুরেয়া। নতুন কোনো ক্লাবে যাওয়ার আগে তার কাছে শুধু চুক্তি, অর্থ বা খেলাধুলার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং সন্তান আগের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে কি না, সেটিও বড় বিষয় ছিল।

কুকুরেয়া একাধিকবার জানিয়েছেন, পরিবার তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ফুটবলের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি সমানভাবে চিন্তা করেন।

জাতীয় দলের হয়ে খেলার চাপ, ভ্রমণ এবং ব্যস্ত সূচির কারণে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে পারিবারিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখছেন এই স্প্যানিশ তারকা।

২০২৪ সালের ইউরো জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কুকুরেয়া বর্তমানে স্পেন দলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। তার লম্বা চুলের স্টাইল এবং আক্রমণাত্মক খেলার ধরন তাকে ভক্তদের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

তবে কুকুরেয়ার গল্প মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলাররাও শুধুমাত্র মাঠের তারকা নন, তারা পরিবার, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিয়ে চলা সাধারণ মানুষও। ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তই তার মানবিক দিকটিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ফুটবলের ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড় ট্রফি ও রেকর্ডের জন্য স্মরণীয় হয়েছেন। কিন্তু মার্ক কুকুরেয়ার মতো কিছু খেলোয়াড় মনে করিয়ে দেন, একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় কখনো কখনো মাঠের বাইরের দায়িত্ব পালনের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।