সবুজ শিল্পায়ন ও সৌর বিদ্যুতে গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের শিল্পায়নকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পর্যায়ক্রমে সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি-সংক্রান্ত পৃথক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবেশ ও বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামো আধুনিক শিল্প স্থাপনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

এছাড়া দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনগুলোতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবে।

এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবাইকে যত্রতত্র প্লাস্টিক ও আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অনুরোধ জানান।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুকুর, রাস্তা ও জনসমাগমস্থলে ময়লার স্তূপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সবার সম্মিলিত সচেতনতাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

এদিকে দুপুরে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সইয়ের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেন।