- মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে সব দেশকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ পূর্ণ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটি উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার একটি বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, নদী-খাল পুনঃখনন, জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং কার্বন বাজার গড়ে তোলার মতো উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ও কনটেইনার চলাচলে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটিও আলোচনায় আসে। নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রবাসী কর্মীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তবে বাংলাদেশের অবস্থান শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন তিনি।
