কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি, সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবক, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব, পুলিশ ও ৮ এপিবিএন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ফেনীর চার তরুণ অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রয়েছেন।
ফেনীর চার তরুণ অপহরণ মামলায় টেকনাফ থেকে আসামি গ্রেপ্তার

ফেনী জেলার চার তরুণকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় আসামি জাহাঙ্গীরকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাহাঙ্গীর হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী (জুম্মাপাড়া) এলাকার গোড়া মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, জাদিমুড়া এলাকায় অপহরণ মামলার এক আসামি অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে জাদিমুড়া এসআর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে এনামুল হক জনির কুলিং কর্নারের সামনে থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে ফেনীর চার তরুণকে অপহরণ করে পাহাড়ে আটকে রাখার ঘটনায় টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। জাহাঙ্গীর ওই মামলার ৮ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় র্যাব।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়ায় সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক

উখিয়ায় সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রত্না কোর্টবাজার দক্ষিণ স্টেশন এলাকার এম আর মোটরস গ্যারেজের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
উখিয়া থানা পুলিশ জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় হাসান নিজেকে সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে বলে দাবি পুলিশের। পরে মোটরসাইকেলসহ তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর এফআইআর-৪২, জিআর-৫৭৭। গ্রেপ্তার হাসানকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাজাপ্রাপ্তসহ ২ আসামি গ্রেপ্তার

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক অভিযান চালিয়ে চুরি মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ এপিবিএন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১০ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এপিবিএন জানায়, ক্যাম্প-৯-এর পানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে উখিয়া থানার একটি চুরি মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোহাম্মদ আলম প্রকাশ সৈয়দ আলমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বালুখালী ক্যাম্প-৯-এর ব্লক-ডি/০৩-এর বাসিন্দা।
অন্যদিকে, ক্যাম্প-১০-এর জি/৪ ব্লক থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জোবায়েরকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি টেকনাফ থানার একটি মাদক মামলার (জিআর নম্বর-২৯৫/২০) সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চুরি মামলার আসামিকে উখিয়া থানা এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়ায় বিভিন্ন মামলায় আরও ১১ আসামি গ্রেপ্তার

উখিয়া থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্তসহ ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ২ জন, সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৫ জন এবং নিয়মিত মামলার ১ জন আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া রিমান্ড শেষে ১ জন এবং পূর্বের মামলায় আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
