- নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ বন্ধ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
তিনি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর ডিপিপি দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
কারাগার-সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে সভায় বলা হয়, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। তবে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণকাজে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সাধারণ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।
সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা বাড়ানো, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রোটোটাইপ ডিজাইন অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও রি-স্কোপিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা রয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
