শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দেশটির সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বর্ণনায়, ঘটনার পর শহরের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে।
এক সংবাদদাতা জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, তার জানালার কাঁচ কেঁপে উঠে। বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আকাশে বিমানের শব্দ শোনা যায়।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে, যার একটির নিচের অংশে কমলা আভা ও আগুনের আভা দেখা যাচ্ছে। পরে অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পর বিকট শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে বারবার ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং স্থলভাগে ‘শিগগির’ হামলা শুরু হবে বলে সতর্ক করে আসছিলেন। গত অক্টোবরে তিনি দাবি করেছিলেন যে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি থেকে অবৈধ অভিবাসী ও মাদকের চালান ঠেকাতে সিআইএ’কে ভেনেজুয়েলার ভেতরে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই এই হামলা চালাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন এবং বাইরের অস্থিরতা মোকাবিলায় ডিক্রি জারি করেছেন। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশবাসীকে এ ‘সাম্রাজ্যবাদী হামলা’র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
