ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার গভীর রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটির প্রভাবে জানালার কাঁচ কেঁপেছে। বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের পর আকাশে বিমানের শব্দ শুনতে পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে, যার নিচে আগুনের আভা দেখা যাচ্ছিল। আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কারাকাসের উত্তরের লা গুয়াইরা রাজ্য এবং মিরান্ডা রাজ্যের উপকূলীয় এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ এবং দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন এবং বাইরের হুমকি মোকাবিলায় ডিক্রি জারি করেছেন। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে দেশবাসীকে এই ‘সাম্রাজ্যবাদী হামলা’র বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে বারবার ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং স্থলভাগে ‘শীঘ্রই’ হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। গত অক্টোবরেও তিনি দাবি করেছিলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ অভিবাসী ও মাদক চালান ঠেকাতে সিআইএ’কে দেশটির ভেতরে অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
