আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুরের বাদ পড়াকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখছেন অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনাকে দুঃখজনক  বলে জানান ।

সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি। তবে যেটা হয়েছে, তা দুঃখজনক এবং দুই দেশের কারও জন্যই এটি ভালো হয়নি।

সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কথাবার্তার মধ্যেই আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ নিয়ে কোন প্রভাব পড়েনি। ক্রয় কমিটির বৈঠকে খেলাধুলা নিয়ে কোন কথাই উচ্চারিত হয়নি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যৌক্তিক সিদ্ধান্তগুলো অব্যাহত থাকবে এবং কেনাকাটার বিষয়ে কোন প্রভাব পড়বে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে পারস্পরিক সম্পর্কের রাজনৈতিক দিকটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।

নির্বাচনের দুই মাস আগে এমন ঘটনাকে রাজনৈতিক চড়াও হিসাবে দেখার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা আবারও বলেন, ঘটনার শুরু বাংলাদেশ থেকে হয়নি। মোস্তাফিজুর একজন ভালো ও বিখ্যাত ক্রিকেটার। দল তাকে দয়াদাক্ষিণ্য করে নয়, বরং পর্যালোচনা করেই নিয়েছিল। হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, হিটলারের সময়েও অলিম্পিক হয়েছিল। তখন হিটলারকে ঘৃণা করলেও সবাই সেখানে অংশ নিয়েছিল। তাঁর মতে, বর্তমান ঘটনাটি আবেগপ্রবণতার ফল। দুই পক্ষ একটু বিবেচনা করলেই এর সমাধান সম্ভব।

এনবিআর দুই ভাগ হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের মধ্যে এটি হওয়ার জন্য প্রায় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। একটি ছোট বিষয় বাকি আছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে।