জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের পরিষ্কার ঘোষণা হলো আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দিব না।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী জেলা ও শহর শাখার আয়োজনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বিভক্ত চাই না। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা অতীতে জাতিকে ১০ টাকা কেজি চাউল খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধোঁকা দিয়েছিল তাদের পরিণতি সবাই দেখেছে। এখনো যারা নানাভাবে জনগণকে ধোঁকা দিতে চান তাদেরকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে অতীতের মত আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে তাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
সমাবেশে তিনি বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং গাইবান্ধায় দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।
পরে তিনি বগুড়া জেলার সাতটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ন্যায় ও ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে এ জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
জনসভা শেষে শফিকুর রহমান শেরপুরে বগুড়া-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমানের পথসভায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকালে গাইবান্ধা থেকে বগুড়ায় এসে মোকামতলা মহিলা কলেজ মাঠে বগুড়া-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের পথসভায় বক্তব্য দেন। তাকে ছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
