ব্রিটিশ-ভারতীয় খ্যাতনামা সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন। রোববার দুপুরে নয়াদিল্লির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স ছিল প্রায় ৯০ বছর। বিবিসি হিন্দি সার্ভিস তার এক সাবেক সহকর্মীর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্ক টালি বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল দেশের মানুষের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালিদের দুর্দশার চিত্র বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে। সম্মাননা নিতে তিনি ঢাকায় এসে ‘স্মৃতি ৭১’ নামক এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তার সাথে ছিলেন একই সম্মাননাপ্রাপ্ত আরেক ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া মার্ক টালি পেশাগত জীবনের বড় অংশ ভারতেই কাটিয়েছেন। টানা ২০ বছর তিনি নয়াদিল্লিতে বিবিসির ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে তাকে প্রায়ই বিবিসির অন্যতম খ্যাতনামা বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিবিসি তাকে ‘ভয়েস অব ইন্ডিয়া’ হিসেবেও অভিহিত করে।
তিনি ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন এবং পরের বছর নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেন। তার সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও প্রতিবেদক ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি ছাড়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সাংবাদিকতায় অনন্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে। ব্রিটিশ সরকার ২০০২ সালে তাকে নাইট উপাধি প্রদান করে। তার রচিত ‘অমৃতসর: মিসেস গান্ধী’স লাস্ট ব্যাটেল’ ও ‘নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া’ গ্রন্থদ্বয় ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
