বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মান্নার অভিযোগ, বিএনপির সমর্থকরা প্রচারে বাধা ও হুমকি দিচ্ছেন

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির স্থানীয় কর্মী ও সমর্থকরা তার নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে মঙ্গলবার রাতের এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি এজন্য বিএনপির প্রার্থীকেই দায়ী করেছেন।

বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মান্না দাবি করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাকে নানাভাবে হেনস্তার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি মামলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি-সমর্থিত মহল সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, বগুড়ায় তার প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় একটি ‘মব’ বা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তৈরি করে তার প্রার্থিতা বাতিলের চেষ্টা করা হয়, অথচ একই কাগজপত্র নিয়ে তিনি ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হিসেবে বৈধ হয়েছেন।

মান্নার অভিযোগ, গত আগস্ট মাসের পর থেকে শিবগঞ্জে মামলা বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তার পক্ষে যে কেউ কাজ করেছেন, তাকে হুমকি দিয়ে বা মামলায় জড়িয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন সেই প্রার্থীর (বিএনপির মীর শাহে আলম) লোকজনই আমার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। মহিলারা প্রচারে বের হলে তাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা ভয়ে প্রচারণায় বের হচ্ছে না।”

প্রাথমিকভাবে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মান্নাকে প্রার্থী করার কথা ছিল এবং তাকে প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে বিএনপি তার নিজস্ব দলের প্রার্থী মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এই পটভূমিতেই মান্না ‘কেটলি’ প্রতীকে বগুড়া-২ এবং ঢাকা-১৮ – দু’টি আসনেই প্রার্থী হয়েছেন।

মান্না দাবি করেন, জোটের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ – এমন প্রচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি ভুল।

মান্নার এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব বলেন, মান্না নিজের পরাজয় ও জামানত হারানোর ভয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। জোটের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিএনপির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এমন কথা বলছেন।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রচারে বাধা দেওয়ার কোনো অভিযোগ থানা পুলিশের কাছে এখনও আসেনি। তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কেও অবহিত নন।

সংবাদ সম্মেলনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে মান্না বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এই অস্বস্তিকর অবস্থায় প্রশাসনকে অবশ্যই সতর্ক ও সক্রিয় হয়ে কাজ করতে হবে, যেন সব প্রার্থীই সমান সুযোগে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারেন।

এই সংবাদ সম্মেলনে মান্নার ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়ক রাজিয়া সুলতানা ইভা, সদস্য মশিউর রহমান পিয়াল এবং নাগরিক পার্টির শিবগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকার উপস্থিত ছিলেন।