এনটিআরসিএর হাত দিয়ে শুরু হলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়োগ

এবার প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদগুলোতে নিয়োগ দেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে এই কেন্দ্রীয় নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে, যা আগে প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডির মাধ্যমে হতো। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে প্রস্তুত আছে। তবে আবেদন গ্রহণের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধানের জন্য মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে।

এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে শিক্ষক-প্রভাষক পদে ৬৭ হাজার ২০৮ জনের নিয়োগে ‘সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬’ এর আবেদন কার্যক্রম চলমান থাকায় প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করতে বিলম্ব হচ্ছে। উক্ত শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের ফলাফল ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

আবেদনপত্র নেওয়ার কারিগরি সহায়তার বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার একটি সভা নির্ধারিত রয়েছে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি একই দিনে পত্রিকায় পাঠানোর আশা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মঙ্গলবার জারি করা একটি পরিপত্রে জানানো হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেন্ডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেন্ডেন্ট পদে ৮০ নম্বরের লিখিত এবং ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেবে এনটিআরসিএ। তবে পরীক্ষার পূর্ণমান হবে ১০০। বাকি ১২ নম্বর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বরাদ্দ থাকবে।

২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হতো প্রতিষ্ঠান各自的 গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। সেসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এখন থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ পরীক্ষার ভিত্তিতে এই পদগুলোতে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।