ধানমন্ডির দুটি হত্যা মামলার রায় রোববার

ঢাকার ধানমন্ডিতে আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে রোববার। ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার এ রায় প্রদান করবেন।

২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডি ২৮ নম্বর রোডের ‘লোবেলিয়া হাউজ’ ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আফরোজা বেগম (৬৫) ও তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা ঘটনার দুই দিন পর, ৩ নভেম্বর, এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত :
প্রাথমিকভাবে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তের পর মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে যায়। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর, ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, তদন্তকারী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান দুজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযুক্তরা হলেন:
১. আফরোজা বেগমের বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়া।
২. সদ্য কাজে যোগ দেওয়া আরেক গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদ।

তদন্তে ইলেকট্রিশিয়ান বেলায়েত হোসেন, বাড়ির ব্যবস্থাপক গাউসুল আজম প্রিন্স ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি চাওয়া হয়।

অভিযোগের :
তদন্ত অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আফরোজা বেগমের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল বাচ্চুর। তবে ঢাকায় কিছু অসৎ সঙ্গীর সংস্পর্শে এসে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং আফরোজা বেগমের অর্থসম্পদের প্রতি লোভ জন্মে।

বাচ্চু পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুরভীকে দিয়ে একটি ধারালো ছুরি (চাকু) কেনায় এবং তাকে কাজের লোক সাজিয়ে একই বাসায় প্রবেশ করায়। ঘটনার দিন বিকেলে বাচ্চু আফরোজা বেগমের কাছ থেকে আলমারির চাবি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে রাগান্বিত হয়ে বাচ্চু সুরভীর সহযোগিতায় ধারালো ছুরি দিয়ে আফরোজা বেগমকে হত্যা করে। এই নির্মম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গৃহকর্মী দিতিকেও তারা হত্যা করে। এরপর তারা বাড়িটি থেকে অর্থ ও গয়নাপত্র লুট করে।

গ্রেপ্তারের পর সুরভী দুই দফা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

বিচার প্রক্রিয়া:
২০২২ সালের ১১ অক্টোবর আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন এবং বিচার শুরু হয়। বিচারকার্য চলাকালে মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

বাদীপক্ষের অবস্থান:
বাদীপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান (আসাদ) দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে তারা সফল হয়েছেন এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) আশা করছেন।

বাদী দিলরুবা সুলতানা রুবা বর্তমানে পরিবারের সাথে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। তার আইনজীবী জানান, রোববার রায় শোনার জন্য তারা ঢাকায় ফিরে আদালতে উপস্থিত থাকবেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আফরোজা বেগমের স্বামী শাহ আশরাফ উল্লাহ ময়মনসিংহের পাগলা থানার মূখী গ্রামের একজন সম্মানিত ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাচ্চু মিয়া তাদের গ্রামেরই বাসিন্দা ছিল এবং আফরোজা বেগম ও তার স্বামীকে পরিবারের অভিভাবকের মতোই মনে করত বাচ্চুর পরিবার।