মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে সরব মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশটির জন্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই ‘সবচেয়ে ভালো জিনিস হতে পারে’। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ কাজ করেনি, যার ফলে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ক্ষমতাসীনরা সরিয়ে গেলে ইরান কারা পরিচালনা করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে কোনো নাম না বললেও ইঙ্গিত দেন যে, এমন ‘লোকজন আছে’ যারা প্রয়োজনে ক্ষমতা গ্রহণ করতে সক্ষম। তবে তিনি কারা এই ‘লোকজন’, তা বিস্তারিত বলেননি।
ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে আধুনিক এই রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে ‘শিগগিরই’ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি রণতরীটির একটি ছবিও পোস্ট করেছেন, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে যোগ দিতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংস দমনপীড়নে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। পেন্টাগন গত জানুয়ারিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছিল।
পারমাণবিক চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত এমন একটি চুক্তি দেওয়া যা তাদের প্রথম থেকেই করা উচিত ছিল। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করতে পারে, তবে তার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার দেশ অতিরিক্ত কোনো দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে ইরান বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন এবং ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। বর্তমানে একটি নতুন চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ওমানে আলোচনা চলছে, যার পরবর্তী রাউন্ড শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
