প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ উপদেষ্টার পদত্যাগ, এপস্টেইন কানেকশনে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত

যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি বিতর্কের জেরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা মর্গান ম্যাকসুইনির নাটকীয় পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়ে, যিনি লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়। ফাঁস হওয়া নথি ও তথ্য থেকে জানা যায়, ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘকালীন ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ২০০৮ সালে এপস্টেইন দণ্ডিত হওয়ার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সচিব থাকাকালে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহ এবং এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের দপ্তর। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সময় তার এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন, কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা ও বিতর্কিত দিকগুলো সম্পর্কে তাকে “বিভ্রান্ত” করা হয়েছিল। তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ও শীর্ষ উপদেষ্টা মর্গান ম্যাকসুইনি এই নিয়োগের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখার অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেছেন। ম্যাকসুইনির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের বিষয়টি জানার পরও তাকে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। ম্যাকসুইনি অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিয়োগের পূর্ববর্তী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া তদারকি না করলেও, এই পরামর্শ দেওয়ার “পুরো দায়” তিনি নিচ্ছেন।

ম্যান্ডেলসন ইতিমধ্যে গত ২ ফেব্রুয়ারি লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে “সরকারি পদে অসদাচরণ”-এর অভিযোগে মেট্রোপলিটন পুলিশ ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি এই ঘটনাকে সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও তার দপ্তরের জবাবদিহিতাকে ঘোরতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সাংসদের মধ্যেও এই নিয়োগ ও এর পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এপস্টেইন সংযোগ এবং উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ত্রুটি ও গোপনীয়তার এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা সরকারের জন্য একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।