ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ

নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের নামের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ফল অনুমোদন দেওয়ার পর শুক্রবার রাতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারি করেন।

গেজেটে নির্বাচিত প্রতিটি প্রার্থীর নাম, তাদের মাতা-পিতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন এই নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে।

নির্বাচনের সার্বিক চিত্র

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল গণনা করা হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা ঘোষণা করা হয়নি। অপরদিকে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নতুন তফসিলে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

দলভিত্তিক ফলাফল

২৯৭ আসনের ঘোষিত ফলাফলে দলগুলোর অবস্থান নিম্নরূপ:

· বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) – ২০৯ আসন
· জামায়াতে ইসলামী – ৬৮ আসন
· জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) – ৬ আসন
· বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস – ২ আসন
· ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ – ১ আসন
· গণঅধিকার পরিষদ – ১ আসন
· বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) – ১ আসন
· গণসংহতি আন্দোলন – ১ আসন
· খেলাফত মজলিস – ১ আসন
· স্বতন্ত্র প্রার্থী – ৭ আসন

শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি। তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শুক্রবার এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”

তিনি আরও বলেন, সামনে রমজান মাস থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা, এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করবে। দ্রুত শপথ সম্পন্ন করে রমজানের আগেই সরকার গঠন করা সম্ভব।

ভোটারের উপস্থিতি

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, যে ২৯৭ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব আসনে গড় ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। আর গণভোটের হিসাবে (২৯৯ আসনের) ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ।

সংসদ ভবনের প্রস্তুতি

নতুন সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধীদলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শুক্রবার বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে, এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব। শপথের তারিখ নির্ধারণ সংসদ সচিবালয়ের বিষয় নয়; আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।”

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ

60657_19406